শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৬ পূর্বাহ্ন
৫৮ রানে ৫ উইকেট, তারপর ইতিহাস গড়ার গল্প!
অনলাইন ডেস্ক
দলীয় মাত্র ৫৮ রানে টপ অর্ডারের পাঁচ ব্যাটার বিদায় নেওয়ায় যেন ছিন্নভিন্ন অবস্থা বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের। মনে হচ্ছিল, তিন অঙ্ক ছোঁয়ার আগেই হয়তো ধসে পড়বে গোটা ইনিংস। কিন্তু সেই অনিশ্চয়তা আর চাপের মাঝে ব্যাট হাতে হাল ধরেন ইফতিখার হোসেন ইফতি ও মঈন আলী। প্রথম দিনের শেষ বিকেল থেকে দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত তাঁদের দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা। শেষপর্যন্ত সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের বিপক্ষে ৩৭১ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ দাঁড় করায় ইয়াং টাইগার্সরা।
ব্যাটিং বিপর্যয়ের সময় মিডল অর্ডারে এসে বড় দায়িত্ব পালন করেন মঈন ও ইফতি। মঈন ৯১ রানে থামলেও ইফতি সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। তাঁদের অসাধারণ ১৭৯ রানের জুটিতে দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ২৪২। এরপর দ্বিতীয় দিন সকালে লোয়ারঅর্ডারের সাহসী ব্যাটিংয়ে যোগ হয় আরও ১৩০ রান। এক প্রকার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি এনে দেয় শেষ তিন উইকেট।
মিরপুর শেরে বাংলায় দ্বিতীয় অনানুষ্ঠানিক চার দিনের টেস্টের প্রথম দিনে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা ওপেনার আশিকুর রহমান শিবলি রানের খাতা না খুলেই বিদায় নেন। এরপর একে একে চৌধুরী রিজওয়ান (৭), অধিনায়ক শাহাদাত হোসেন (১), আরিফুল ইসলাম (০) এবং প্রীতম কুমার (২) আউট হয়ে সাজঘরে ফিরলে ৫৮ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
তখন থেকেই শুরু হয় ইফতি ও মঈনের দুর্দান্ত জুটি। চোখে লাগার মতো ধৈর্য্য ও নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসনে ১৭৯ রানের পার্টনারশিপ গড়েন তাঁরা। মঈন ১৫টি চারে ১৫৯ বলে করেন ৯১ রান। দলের ২৩৭ রানে তিনি ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে ফেরেন। আর ইফতি ২৯১ বল মোকাবেলা করে ১৪টি চারে ১০৯ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলে দিন শেষ হওয়ার আগেই আউট হন।
আজ দ্বিতীয় দিনে লোয়ারঅর্ডারে রাকিবুল হাসান ও রিপন মণ্ডল শক্ত শুরু এনে দেন। রাকিবুল ৩১ রানে থামলেও রিপন ৪৩ রান করে স্টাম্পিংয়ে কাটা পড়েন। দশ নম্বরে ব্যাট করতে নামা মেহেদী হাসান অপরাজিত থাকেন ৪৪ রানে।
সব মিলিয়ে ৩৭১ রানে দশ উইকেট হারিয়ে শেষ হয় বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের ইনিংস। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে আন্দিলে মোকগাকানে ৪২ রানে ৪টি উইকেট তুলে নেন। এনটুলি নেন ৩টি, মোকেয়না ২টি এবং ফরেস্টার ১টি উইকেট শিকার করেন।